বর্তমানে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে

ববি হাজ্জাজের জন্ম ঢাকার মগবাজারে। বাবা মুসা বিন শমশের। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার একটি ইংরেজি স্কুলে। এরপর ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া ২০০৬-০৭ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০৭- ০৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইন্ট এন কলেজ থেকে কৌশলগত বিদ্যার ওপর গবেষণা ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে ২০১২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৪-২০১৫ সালে জাতীয় পার্টির মুখপাত্র ও প্রধান নির্বাচন উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে নতুনভাবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে আগামী ২৪ এপ্রিল। তার রাজনীতি নিয়ে আজকালের খবরের সঙ্গে কথা বলেছেন ববি হাজ্জাব। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার বাহরাম খান।

আজকালের খবর: হঠাৎ করে রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। উদ্দেশ্য কী?
ববি হাজ্জাজ: হঠাৎ করে কিছু হয়নি। অনেক সময় ধরে কাজ করেই আমরা দল গঠনের পথে এগিয়েছি। প্রত্যেক বিভাগের দুই-তিনটি জেলায় সফর করেছি। অনেক উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত গিয়েছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মনের ভাষা পড়ার চেষ্টা করেছি। মানুষ কী চায়, কেন চায় বুঝার চেষ্টা করেছি। এরপর আমরা দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি।
আজকালের খবর: আপনি নিজে একটি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নতুন দল গঠনের প্রয়োজন হলো কেন?
ববি হাজ্জাজ: আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছে। রাজনীতিকদের কাছে দেশের মানুষ যা চায় তা পায় না। আমরা সেই জায়গাটায় কাজ করতে চাই। মানুষের প্রত্যাশা এবং রাজনীতির উদ্দেশ্যের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করতে চাই। এর আগে আমি একটি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেখানে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু পরিকল্পনা আমাদের ছিল। সময় অতিবাহিত হওয়ায় দেখা গেল সেগুলো ঠিকমতো কাজ করেনি। এখানে কারও দোষ আমি দেখি না। সব জায়গায় সব কিছু ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। ওই দলে কয়েক বছর কাজ করার পর কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। এরপর দলের বাইরে থেকে অন্তত বছর দেড়েক মানুষের সঙ্গে মিশে, কথা বলে বুঝতে চেষ্টা করেছি মানুষ কী চায়। তারপর আমরা দল গঠনে উদ্যেগী হয়েছি।
আজকালের খবর: বাংলাদেশে তো দুই পরিবারের বাইরে আর কোনো দল অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।
ববি হাজ্জাজ: গত ২৭ বছর ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যে একটি অনেক পুরনো দল। আরেকটি ক্ষমতার মধ্য থেকে গড়ে ওঠা দল। আমরা দেখেছি দেশে ক্ষমতার মধ্যে থেকে দুটি দল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে একটি দলের অবস্থা এক-দেড় পা কবরে যাওয়ার অবস্থায় আছে। আরেকটি দল টিকে আছে। অর্থাৎ তারা ভালো নেই, খারাপ অবস্থায় আছে। মানুষের সামনে বিকল্প কিছু নেই, তাই টিকে আছে। কোনো দল ভালোভাবে দাঁড়ালে সেটাও পড়ে যাবে। তার মানে আমি বলছি না যে, রাতারাতি কেউ পড়ে যাবে বা কেউ উঠে যাবে। কথায় আছে- কষ্ট করলে কেষ্ঠ মিলে। যারা মাঠে নেমে সঠিক পথে কাজ করবে তাদের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকবেই।
আজকালের খবর:  অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতা নতুন দল গড়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি।
ববি হাজ্জাজ: এর আগে যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বের হয়ে নতুন দল গড়েছেন তারা তাদের মতো চেষ্টা করেছেন বা করছেন। উনাদের অনেকের সঙ্গে আমার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো। তাদের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যারা আগে চেষ্টা করেছেন তাদের প্রেক্ষাপট, চিন্তা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ব্যক্তি, সময় এবং পরিস্থিতি সবই আলাদা। এখন একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটের চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা যারা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছি তারা ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন চিন্তায় কাজ করছি। সবদিক থেকে যেহেতু ভিন্নতা আছে তাই আমার প্রত্যাশা ফলটাও ভিন্ন হবে।
এছাড়া বড় দলের বাইরে যারা দল গঠন করেছেন তাদের অনেকের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। অনেক আগেই তারা  নৈতিক অবস্থান হারিয়ে ফেলেছেন। এরপরও অনেকে টিকে আছেন। কারণ নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখনো কেউ দাঁড়াতে পারেনি। এদের মধ্যে অনেকের রাজনৈতিক জীবনে হয়তো জেল-মারপিটের মতো ঘটনায় ত্যাগ-তিতিক্ষা আছে। কিন্তু দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর মতো বা কিছু দেওয়ার মতো পরিকল্পনা নেই। কারণ তারা কোনো একটি বড় দলে ছিলেন। কোনো কারণে মতপার্থক্য হয়েছে, তখন দল থেকে বের হয়ে নতুন দল করে আগের দলের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যটা দেখেন, তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যায়।এ কারণে বর্তমান সময়ে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দেড় বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কীভাবে কী নির্বাচন হবে সে বিষয়ে সবাই অন্ধাকারে। যেন কেউ কিছুই জানে না।
আজকালের খবর: নতুন দল মানে পুরনো অনেক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা শীর্ষপদে আসেন। আপনাদের দলে তেমন কারা আসছেন।
ববি হাজ্জাজ: আগমি ২৪ এপ্রিল আমরা আমাদের দলের আত্মপ্রকাশ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। তখন সবার বিষয়ে জানতে পারবেন। এখনই বলতে চাচ্ছি না।
আজকালের খবর: অন্য দল থেকে মানুষ আপনার দলের প্রতি কেন আকৃষ্ট হবেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বির্তকিত ব্যক্তিরা পুরনো দলে দাম না পেয়ে নতুন দলে ভিড় করেন।
ববি হাজ্জাজ: আমি আপনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। আবার এমনটা যে হচ্ছে না তাও নয়। দেখুন, অন্য একটি অবস্থান থেকে যখন কেউ নতুন জায়গায় যান তখন অনেক কিছু হিসেব করেন। আমি আপনাদের সাংবাদিকদের উদাহরণ দিয়েই বলি। প্রতিষ্ঠিত একটি পত্রিকায় কাজ করা কেউ সহজেই নতুন পত্রিকায় যেতে চাইবেন না। আবার যদি দেখেন নতুন প্রতিষ্ঠান হলেও সেটির ভালো সম্ভাবনা আছে তখন কিন্তু চিন্তা করবেন। কারণ পুরনো প্রতিষ্ঠানে আপনি যত দিনে রিপোর্টার থেকে সম্পাদকীয় পদে যাবেন ততদিনে নতুন একটি পত্রিকায় সম্পাদক পর্যন্ত যেতে পারেন।
শুধু পত্রিকা নয়, সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এটা সত্য। তেমনি রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে যদি কেউ দেখেন আমাদের দল নতুন হলেও সামনের দিনে এর সম্ভাবনা আছে তাহলে আসবেন। এছাড়া আমার দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই নতুন। এর মানে এই নয় যে উনারা রাজনীতি বিমুখ। তারা রাজনীতি করতে চান। আমরা দেশব্যাপী হাজারে হাজারে পরিষ্কার ইমেজের লোক পাচ্ছি। তারা রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখেন না। সেরকম ক্লিন ইমেজের মানুষেরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
আজকালের খবর: তার মানে আপনার দলে তরুণরা প্রাধান্য পাচ্ছে?
ববি হাজ্জাজ: আমরা সবাইকে নিয়েই সামনের দিকে এগুতে চাই। বর্তমানে দেশে তরুণ বয়সী মানুষ বেশি। তাদেরকে নিয়ে আমাদের আলাদা চিন্তা আছে। তবে, আমাদের দেশে এবং বিশে^র অন্য জায়গায় তারুণ্যের ধারণায় পার্থক্য আছে। ইংল্যান্ডের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমার সমবয়সী। কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমার চেয়ে ছোট। এগুলো এই সময়ের উদাহরণ। আবার দেখেন অংকের ওপর প্রতি চার বছর পর পর অনূর্ধ¦ চল্লিশ বছর বয়সীদের খুবই মর্যাদপূর্ণ ‘ফিল্ডস পদক’ দেয়া হয়। এটাকে অংকের নোবেল বলা হয় । চল্লিশের আগে দেয়া হলেও তাদের কাজটা ত্রিশ বছর বয়সের আগেই করেন। আমাদের দেশে আমাকে এখনো তরুণ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ইউরোপ-আমেরিকায় তারুণ্যের সংজ্ঞায় আমার দিকে কেউ তাকাবেই না। আমাদের দেশে আমি যাদেরকে কাকা বলি তাদের মধ্যেও অনেকে তরুণ। এজন্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এ বিষয়টা আলাদা করা মুশকিল হয়ে যায়। আর রাজনীতির ক্ষেত্রে যদি বলেন, আমাদের দেশটাই কিন্তু তরুণ। মাত্র ৪৬ বছর বয়স। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশে অতীতে অনেক ভুল হয়েছে। আমরা সেই ভুলটা করব না।
আজকালের খবর: কেমন ধরনের ভুল?
ববি হাজ্জাজ: আমাদের স্বাধীনতা এসেছে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। প্রত্যেকটা বিল্পবের পর একটা নেতৃত্বের পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তনে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিপ্লবের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা বৈরী সময়ে দেশ স্বাধীনে বিশাল অবদান রেখেছেন। সে কথা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একটা জায়গায় ঘাটতি ছিল। বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে পারলেও তারা দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞ ছিলেন না। ওই জায়গায় আমরা ভুল করেছি। তাই এই পর্যায়ে নতুনদের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা সবাইকে নিয়েই সামনে এগুব, যেন ভুল না হয়্।
আজকালের খবর: আপনার দলের কি কোনো জোটে যাওয়ার চিন্তা আছে?
ববি হাজ্জাজ: আমরা আমাদের নিজেদের দলের জন্য কাজ করছি। কোনো জোটে যাওয়ার জন্য দল গঠন করছি না। যদি জোটে যাওয়ার জন্য দল করতাম তাহলে প্রথম থেকে সে ধরনের কার্যক্রম দেখতেন। আমরা কারো সঙ্গে গিয়ে জোট করব তা না, আমরা আমাদের দল গড়ার কাজ করছি। আমাদের দলের বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে যদি কাজ করতে চান সেটা ভিন্ন বিষয়।
আজকালের খবর: দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। আপনাদেরটা কী?
ববি হাজ্জাজ: আমার মতে এই বিষয়ে কোনো দলই আসল কথাটা বলে না। তারা এই বিষয়টাকে নিয়ে রাজনীতি করেন। আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ যা বলে সেটাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ হিসেবে প্রচলিত। আর তাদের বিরুদ্ধে যা বলা হয় ওইটা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু, আমাদের দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়টা খুবই পরিষ্কার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ঠিক ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাঙালি জাতীয়তাদের প্রয়োজনীয়তা শেষ গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমাদের মূল জায়গা। এটাই আমাদের অবস্থান। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রয়োজন হয়েছিল উর্দুভাষী ও পাকিস্তানিদের বিপরীতে আমাদের অবস্থান। ’৫২ ’৬৬ ’৬৯ এবং একাত্তরে আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে একত্রিত হয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর আমরা বাংলাদেশি। এই ভূখণ্ডে চাকমা, মারমা, বৌদ্ধ, মুসলমানসহ সবাই আমরা বাংলাদেশি।
আজকালের খবর: নতুন দল গঠনে ক্ষেত্রে অনেক সময় পর্দার আড়াল থেকে বিভিন্ন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতার কথা আলোচনায় আসে।
ববি হাজ্জাজ: শুনুন এসব বিষয় যারা বলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। কারণ কেউ কোনো উদ্যোগ নিলে নানান ধরনের আলোচনা-সামলোচনা হয়। আমি সেদিকে কান দিতে চাই না। আপনি হয়তো কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কথা বলছেন। আমরা কোনোভাবেই কোনো সংস্থার সংস্পর্শে নেই। বরং বড় দলগুলো ক্ষমতায় থাকার সময় নাকি গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য নিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়। আমার প্রশ্ন দল তাদের নিজের, নাকি গোয়েন্দা সংস্থার?
আজকালের খবর: রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের পারিবারিক অবস্থান নিয়েও মানুষের আগ্রহ থাকে। আপনার বাবাকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় প্রায়ই মিডিয়ায় আসে।
ববি হাজ্জাজ: সমাজে পরিচিত মানুষদের নিয়ে কিছু না কিছু বিতর্ক থাকেই। যিনি যতো বেশি পরিচিত তিনি ততো বেশি বিতর্কিত। তাদের বিষয়ে কোনো কথা উঠলে সেটা সবাই জানেন বা জানার আগ্রহ দেখান। মাদার তেরেসার বিষয়েও বিতর্ক ছিল। তিনি নাকি মানুষকে সাহায্য করার সময় মানুষকে খ্রিস্টান হওয়ার কথা বলে দিতেন। একজন মহৎ নারী, যিনি সারা জীবন শুধু মানুষকে দিয়েই গেছেন। এটা নতুন কিছু নয়। এদিক থেকে  দেখলে সব মানুষেরই এমন থাকে। কিন্তু বিখ্যাতদের বিষয়ে আলোচনাটা বেশি হয়। আমার পারিবারিক পরিচয় ছেড়ে তো আমি কিছু করতে পারি না। আমি চাই বা না চাই মানুষ এটা মেলাতে চাইবে। এক্ষেত্রে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই থাকুক সেটা নিয়েই আমার কাজ করতে হবে।
আজকালের খবর: গণতন্ত্র বলে সারাজীবন রাজনীতি করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্রেই গণতন্ত্রের অভাব দেখা যায়। আপনাদের দলের গঠনতন্ত্র কেমন হচ্ছে?
ববি হাজ্জাজ: বিএনপি এবং আওয়ামী লীগসহ অনেক দলের গঠণতন্ত্র আমি দেখেছি। আওয়ামী লীগেরটা তুলনামূলক বেশি গণতান্ত্রিক। কিন্তু গঠনতন্ত্রে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। ফলে এক্ষেত্রে ‘সুযোগ’ নেয়ার পথ আছে। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে বিশে^র গণতান্ত্রিক রীতিতে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু বিষয় গ্রহণ করেছি। এর বাইরে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আশা করি বিস্তারিত ২৪ এপ্রিল জানতে পারবেন।
আজকালের খবর: অন্য রাজনৈতিক দল থেকে উল্লেখ করার মতো কেউ কি আসছেন আপনার দলে?
ববি হাজ্জাজ: এই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। এসব কথা বলার জন্যই আমরা আপনাদের সামনে ২৪ এপ্রিল হাজির হচ্ছি।
আজকালের খবর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ববি হাজ্জাজ: আপনাকেও ধন্যবাদ।